অ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষা: রিভিশনের কার্যকর পাঁচ কৌশল

অ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষা: রিভিশনের কার্যকর পাঁচ কৌশল

অ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষায় সফলতার জন্য ধারাবাহিকভাবে রিভিশন করা অপরিহার্য। তবে রিভিশনের পদ্ধতিও সঠিকভাবে পরিকল্পিত হতে হবে। মুখস্থ করার জন্য সময় ব্যয় না করে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আত্মস্থ করার মাধ্যমে রিভিশন দেয়া পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিকে সহজ করে তোলে। নিচে এমন পাঁচটি সূত্র দেয়া হলো যা মেনে রিভিশন করলে আপনার প্রস্তুতি আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।

মুখস্থ করার জটিলতা
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা আইন পেশায় সফলতার জন্য মুখস্থ করার পদ্ধতি একটি প্রতিকূল পন্থা। যখন কেউ কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করতে থাকে, তখন তা কিছু সময়ের জন্য মনে থাকলেও, তা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। একজন পরীক্ষার্থী একই বিষয় বারবার মুখস্থ করলেও, তা পরীক্ষার সময় ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে সময় ও পরিশ্রম দুটোই নষ্ট হয় এবং আইন শেখার মৌলিকতাও ব্যাহত হয়।

১. ধারাবাহিকতার সূত্র মেনে রিভিশন
আইনের ধারাগুলি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পড়লে রিভিশন করা সহজ হয়। ধারা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত থাকলে একবার পড়ার পর বিষয়টি মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

উদাহরণস্বরূপ, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৭৬ থেকে ৯৬ ও ১০৬ পর্যন্ত মোট ৩১টি ধারায় ‘সাধারণ ব্যতিক্রম’ বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এই ৩১টি ধারা ধারাবাহিকভাবে রিভিশন করলে কার্যকর হয়।

আবার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ ও দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এ একটি মামলা দায়ের থেকে আপিল, রিভিউ, রিভিশন পর্যন্ত সব বিধান রয়েছে। এ ‍দুটি আইনের ধারাগুলো বিচার কার্যক্রমের বিভিন্ন স্তর অনুসারে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে রিভিশন দিলে প্রস্তুতি আরও ফলপ্রসূ হবে। রিভিশনের সময় ধারাবাহিকভাবে সাজানো ধারাগুলি বারবার পড়া এবং মূল ধারণা বোঝার মাধ্যমে বিষয়বস্তু সহজেই মস্তিষ্কে গেঁথে যায়।

২. তুলনামূলক অধ্যয়নের সূত্র মেনে রিভিশন
ধারা মুখস্থ রাখার আলোচনায় আমি বলেছি, অ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষায় এমন কিছু ধারার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন আসে, যা তুলনামূলকভাবে বোঝা জরুরি। যেমন, দণ্ডবিধির ২৯৯ এবং ৩০০ ধারা, বা সাক্ষ্য আইনের ৩০, ১৩৩ এবং ১১৪(খ) ধারাগুলো। এগুলো তুলনা করে রিভিশন করা হলে পার্থক্যগুলো স্পষ্ট হয়। রিভিশনের সময় এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্যগুলো ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে যাতে কনসেপ্টভিত্তিক প্রশ্ন এলে তা সহজেই সমাধান করা যায়।

৩. মডেল টেস্টের মাধ্যমে রিভিশন
আগের আলোচনায় আমি বলেছি, প্রতিবার রিভিশনের পর একবার মডেল টেস্ট দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে মডেল টেস্ট বইয়ের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে নিজেই মডেল টেস্ট তৈরি করে পরীক্ষা দিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে ধারাগুলোর ক্রমিক সংখ্যা মনে রাখার চাপ কমে যায় এবং প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রস্তুতি আরো দৃঢ় হয়।

৪. কঠিন ও ব্যতিক্রমী প্রশ্নের ওপর নজর রাখা
মডেল টেস্টে কিছু কঠিন ও ব্যতিক্রমী প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত যা সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়ন যাচাই করে। উদাহরণস্বরূপ, আইনের ধারাগুলোর সঙ্গে মার্জিনাল নোট, উদাহরণ ও ব্যতিক্রম ইত্যাদি থাকে। এসব জায়গা থেকে প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা দিলে বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে সহায়ক হবে। এতে দক্ষতা বাড়ে এবং পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৫. মুখস্থ করার চেষ্টা না করে প্রাকৃতিকভাবে মনে রাখা
বারবার রিভিশনের ফলে কিছু বিষয় স্বাভাবিকভাবেই মুখস্ত হয়ে যায়। রিভিশনের মাধ্যমে নতুন নতুন ধারা ও বিষয়বস্তু প্রাকৃতিকভাবেই আপনার স্মৃতিতে গেঁথে যাবে।

সঠিক রিভিশন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি শুধু পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য নয়, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও অত্যন্ত কার্যকর।

মিফতাহুর রহমান, অ্যাডভোকেট, ঢাকা জজ কোর্ট


Discover more from আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

একটি মন্তব্য করুন ⤵️

×
পরামর্শ প্রয়োজন? এখানে চাপুন!