সাজেশন: বার কাউন্সিল ও বিজেএস পরীক্ষা
আদেশ-১, বিধি-৮
ধারা: ১১ এর ব্যাখ্যা-৬
সাধারণ নিয়ম হলো, একই বিষয়বস্তুতে যতজন ব্যক্তির একই স্বার্থ আছে তাদের সবাইকে মোকদ্দমার পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তবে, যৌথ বাদীর মোকদ্দমার ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু বা স্বার্থ আলাদা হলেও, একাধিক ব্যক্তি একত্রিত হয়ে একটি মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। অন্যদিকে, প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় বহু সংখ্যক বাদী বা বিবাদীর পক্ষে যে কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত হন।
সংশ্লিষ্ট আলোচনা
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৫ ॥ পর্ব ৫
যৌথ বাদী বা বিবাদীর মোকদ্দমা
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু
মোকদ্দমার স্বার্থ
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা
(Representative Suits)
ধরা যাক, একটি গ্রামে সরকারি একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কিছু জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গ্রামের অনেক বাসিন্দার দাবি, এই জমি তাদের পূর্বপুরুষদের জমি এবং তাদের সেই জমির ওপর অধিকার আছে। এমতাবস্থায় গ্রামবাসীদের মধ্যে একজন বা কয়েকজন সকলের প্রতিনিধি হিসেবে আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রামের পক্ষ থেকে মামলা করতে পারেন। এভাবে মোকদ্দমার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি পক্ষভুক্ত না হয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তি পক্ষভুক্ত হয়ে সকলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা মোকদ্দমাকেই বলা হয় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা।
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার শর্ত
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-১ এর বিধি-৮-এ প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার তিনটি শর্তের উল্লেখ রয়েছে:
১. বহু ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ থাকবে।
২. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
৩. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে যত জনের স্বার্থ আছে, বাদীর নিজ খরচে প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ দিতে হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ ব্যক্তির সংখ্যা অনেক বেশি হলে বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে যদি সকলকে ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ করা না যায়, তবে আদালত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
আদেশ-৭ এর বিধি-৪ অনুযায়ী, যদি কেউ বাদী হয়ে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা করতে চান, তবে আর্জিতে তাকে দুইটি বিষয় দেখাতে হবে:
১. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে তার স্বার্থ রয়েছে।
২. অন্য সকলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার বৈশিষ্ট্য
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল-
◉ প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় বহু সংখ্যক বাদী অথবা বহু সংখ্যক বিবাদী থাকবেন।
◉ বহু সংখ্যক বাদীর পক্ষে বা বহু সংখ্যক বিবাদীর বিপক্ষে একই স্বার্থ থাকবে।
◉ বহু সংখ্যক ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী না হয়ে তাদের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হবেন।
◉ যার পক্ষে বা বিপক্ষে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে এমন যে কোনো ব্যক্তি চাইলে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করে মোকদ্দমায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
মামলার রায় যাদের ওপর বাধ্যতামূলক
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-১১ এর ৬ নম্বর ব্যাখা অনুযায়ী, যদি কয়েকজন ব্যক্তি একটি গণঅধিকার বা ব্যক্তিগত অধিকার বিষয়ে সরল বিশ্বাসে মোকদ্দমা করেন, যেখানে অধিকারটিতে বহু লোকের একই স্বার্থ আছে, তবে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিই ওই মোকদ্দমাটি করেছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।
এ ব্যাখা থেকে বলা যায়, প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার রায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের ওপর বাধ্যতামূলক হবে:
১. মামলার পক্ষগণ: যারা সরাসরি মামলায় পক্ষ হিসেবে যুক্ত আছেন, তাদের জন্য রায় অবশ্যই বাধ্যতামূলক।
২. প্রতিনিধিত্ব করা ব্যক্তিদের ওপর: যেসব ব্যক্তিকে মামলায় সরাসরি পক্ষ করা হয়নি কিন্তু যারা প্রতিনিধিত্বমূলক মামলায় প্রতিনিধিত্বের আওতায় আসে, তাদের জন্য রায় বাধ্যতামূলক। তবে এটি প্রযোজ্য হবে, যদি তারা সঠিকভাবে প্রতিনিধি মামলা করার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
৩. মামলায় বিজ্ঞপ্তি পাওয়া ব্যক্তিদের ওপর: আদালত যদি বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী বা শ্রেণিকে জানিয়ে থাকে এবং তারা এই মামলা সম্পর্কে অবগত থাকে, তাহলে রায় তাদের জন্যও বাধ্যতামূলক।
রেস-জুডিকাটার বিধান
ধারা-১১ এর ৬ নম্বর ব্যাখা থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায়, সরাসরি পক্ষভুক্ত হোক বা না হোক, যদি পক্ষভুক্ত প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরা সরল বিশ্বাসে সকলের স্বার্থে মোকদ্দমাটি পরিচালনা করে থাকেন, তবে সেটি সবার ওপর সমানভাবে কার্যকর হবে।
এক্ষেত্রে, রেস-জুডিকাটা বা দোবার দোষের নীতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় মোকদ্দমা দায়ের করা বারিত হবে।
মিফতাহুর রহমান, অ্যাডভোকেট, ঢাকা জজ কোর্ট
Discover more from আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
