আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা ও আইনি প্রক্রিয়া

সাজেশন: বার কাউন্সিল ও বিজেএস পরীক্ষা
ধারা: ৮৮
আদেশ-৩৫, বিধি-৫

সাধারণ নিয়ম হলো, মোকদ্দমার স্বার্থ নিয়ে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। তবে আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমায় বাদীর কোনো স্বার্থ থাকে না, বরং মোকদ্দমার স্বার্থ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিবাদীদের মধ্যে।

আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা
Interpleader Suit

ধরা যাক, একজন মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে জমাকৃত কিছু গহনার মালিকানা দাবি করছে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি। এক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক নির্ধারণ করার জন্য ব্যাংক বাদী হয়ে যারা মালিকানা দাবি করছে তাদের সবাইকে বিবাদী করে একটি মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এ ধরনের মোকদ্দমাকে বলা হয় আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা। এ মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে বাদী কোনো স্বার্থ দাবি করে না বিধায় এটিকে স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বলা হয়।

মোকদ্দমার শর্ত

দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী আন্তঃবিবাদী বা স্বার্থবিহীন মোকদ্দমার শর্তাবলী হলো:
১. দুই বা তার অধিক সংখ্যক ব্যক্তি মোকদ্দমার বিবাদী হবেন;
২. প্রত্যেক বিবাদী মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে তার একই স্বার্থ আছে বলে অন্য বিবাদীর বিরুদ্ধে দাবি করবেন;
৩. মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হতে পারে কোনো ঋণ, কিছু পরিমাণ টাকা বা অন্য কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি;
৪. মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বাদীর দখলে থাকবে;
৫. বাদী মোকদ্দমার বিষয়বস্তুটি প্রকৃত দাবিদারকে বুঝিয়ে দিতে চাইবেন;
৬. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোনো স্বার্থ থাকবে না, তবে তিনি মোকদ্দমার স্বার্থ ব্যতীত তার পাওনা মাশুল বা খরচ দাবি করতে পারবেন;
৭. মোকদ্দমাটি দায়ের করার উদ্দেশ্য হবে প্রকৃত দাবিদার নির্ধারণ করা;
৮. মোকদ্দমার বিষয়বস্তু নিয়ে বিবাদীদের মধ্যে কোনো মোকদ্দমা বিবদমান থাকলে আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট আলোচনা
মোকদ্দমার পক্ষসমূহ: বাদী ও বিবাদী
যৌথ বাদী বা বিবাদীর মোকদ্দমা
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু
মোকদ্দমার স্বার্থ

আরজি লেখার পদ্ধতি

আদেশ ৩৫-এর বিধি-১ এ বলা হয়েছে যে, আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমায় অন্য সাধারণ মোকদ্দমার আরজির মতোই হবে। তবে এ মোকদ্দমার আরজিতে অতিরিক্ত তিনটি বিষয়ে বিবরণ দিতে হবে। যথা:
(ক) পাওনা মাশুল বা খরচ ব্যতীত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোনো স্বার্থ নেই;
(খ) বিবাদীগণ আলাদা আলাদাভাবে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থ দাবি করেছেন;
(গ) মোকদ্দমার কোনো বিবাদীর সঙ্গেই বাদীর কোনো বিরোধ নেই।

বিচারিক প্রক্রিয়া

এ মোকদ্দমার বিচার প্রক্রিয়া অন্যসব মোকদ্দমার মতো হলেও আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমার জন্য বাড়তি কিছু বিধান রয়েছে। যথা:

১. মোকদ্দমার বিষয়বস্তু আদালতের জিম্মায় রাখার বা আদালতে পরিশোধ করার উপযোগী হলে বাদীকে তা আদালতের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন বিচারক। (আদেশ ৩৫, বিধি ২)

২. আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমার কোনো বিবাদী যদি এই মোকদ্দমার বাদীর বিরুদ্ধে একই বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করেন তবে সেই আদালতকে আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা দায়েরের বিষয়টি অবহিত করা হলে ওই আদালত বাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি স্থগিত করবেন। এক্ষেত্রে আদালত স্থগিত মোকদ্দমাটির খরচ আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমার বাদিকে পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা যদি তা না করা হয় তবে আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমার আদেশে উক্ত মোকদ্দমার খরচ যুক্ত করা যাবে। (আদেশ ৩৫, বিধি ৩)

মোকদ্দমা দায়েরে বাধা

এই আদেশের অধীনে প্রতিনিধি (agent) তার প্রধানের (principal) বিরুদ্ধে এবং ভাড়াটিয়া জমিদারের বিরুদ্ধে আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা করার অধিকার পাবে না। তবে প্রতিনিধির প্রধান বা জমিদারের মাধ্যম হয়ে কেউ মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থ দাবি করলে আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা দায়ের যাবে। (আদেশ ৩৫, বিধি ৫)

উদাহরণ
১. ক এক বাক্স রত্ন খ-এর নিকট জমা রাখে। ক রত্নগুলো অন্যায়ভাবে তার কাছ থেকে অর্জন করেছে এটা দাবি করে খ-এর কাছে গ রত্নগুলো দাবি করে। ক ও গ-এর বিরুদ্ধে খ আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা করতে পারবে না।

২. ক এক বাক্স রত্ন খ-এর নিকট জমা রাখে। অতঃপর তিনি খ-কে লিখিত দেন যে রত্নগুলো গ-এর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের জামানত হিসেবে রাখতে হবে। কিছুদিন পর ক দাবি করেন তিনি ঋণ পরিশোধ করেছেন, এদিকে গ দাবি করে ঋণ পরিশোধ করা হয়নি। এক্ষেত্রে ক ও গ-কে বিবাদী করে খ আন্তঃবিবাদী মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।


Discover more from আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

একটি মন্তব্য করুন ⤵️

×
পরামর্শ প্রয়োজন? এখানে চাপুন!