মোকদ্দমার পক্ষসমূহ: বাদী ও বিবাদী

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর প্রথম আদেশের শিরোনাম হল, মোকদ্দমার পক্ষসমূহ। এ আদেশে একাধিক বাদী বা একাধিক বিবাদী কখন এবং কীভাবে যৌথভাবে মোকদ্দমায় অন্তর্ভুক্ত হবে, পক্ষসমূহের অসংযোগ, অপসংযোগ, প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

মোকদ্দমার পক্ষসমূহ
(Parties to Suit)

দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোনো সম্পত্তি বা পদের অধিকার আদায়ের জন্য দুই পক্ষ পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকেন। যে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি অথবা আইনগত ব্যক্তি মোকদ্দমার পক্ষ হতে পারেন। প্রত্যেক মানুষই একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি। অন্যদিকে, আইনগত ব্যক্তি বলতে বোঝায় যেকোনো নিবন্ধিত কোম্পানি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে

মোকদ্দমার দুই পক্ষকে বলা হয়—বাদী পক্ষ ও বিবাদী পক্ষ। একই মামলায় একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে বাদী কিংবা বিবাদী হতে পারেন।

বাদী (Plaintiff)

প্রথম পক্ষ, যিনি সম্পত্তি বা পদের অধিকার দাবি করে আদালতে মোকদ্দমা করেন, তাকে বলা হয় বাদী

বিবাদী (Defendent)

দ্বিতীয় পক্ষ, যার কাছ থেকে বাদী অধিকারটি আদায় করতে চান, তিনি বিবাদী

বাদী ও বিবাদী সম্পর্কিত অন্যান্য বিধান

মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে একাধিক ব্যক্তির একই স্বার্থ থাকলে তাদের প্রত্যেকেই মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত করতে হয়। যথাযথ ব্যক্তিকে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ষ করা না হলে মোকদ্দমাটি খারিজ হয়ে যেতে পারে। বিষয়বস্তুতে স্বার্থ ও মোকদ্দমায় অংশগ্রহণের আবশ্যকতা বিবেচনায় মোকদ্দমার পক্ষসমূহকে আবশ্যকীয় পক্ষ, উপযুক্ত পক্ষ, মোকাবেলা বিবাদী ইত্যাদি বলা হয়।

আবশ্যকীয় পক্ষ
(Necessary Party)

মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করে রায় ও ডিক্রি ঘোষণার জন্য যাকে পক্ষভুক্ত করা আবশ্যক, তিনি হলেন মোকদ্দমার আবশ্যকীয় বা প্রয়োজনীয় পক্ষ।
উদাহরণ: বাটোয়ারা বা সম্পত্তি ভাগের মোকদ্দমায় প্রত্যেক শরীকই আবশ্যকীয় পক্ষ।

উপযুক্ত পক্ষ
(Proper Party)

যাকে পক্ষভুক্ত না করলেও মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করা যায়, কিন্তু যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করে রায় ও ডিক্রি ঘোষণা করা যায় না, তিনি হলেন মোকদ্দমার উপযুক্ত পক্ষ।
উদাহরণ: ‘ক’-এর মালিকানাধীন ভূমি ‘খ’ জবরদখল করে ‘গ’-এর নিকট ভাড়া দেন। এক্ষেত্রে, মালিকানাসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমায় ‘ক’ ও ‘খ’ হচ্ছেন আবশ্যকীয় পক্ষ এবং ‘গ’ হচ্ছেন উপযুক্ত পক্ষ।

মোকাবেলা বিবাদী
(Proforma Defendant)

মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে কোনো স্বার্থ না থাকা সত্ত্বেও মোকদ্দমাটি কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য যাকে বিবাদী করা প্রয়োজন হয়, তিনিই হলেন মোকাবেলা বিবাদী।
উদাহরণ: খতিয়ান সংশোধনের মোকদ্দমায় ভূমি কমিশনার একজন মোকাবেলা বিবাদী।

সংজ্ঞাসমূহ

বিষয়বস্তু
(Subject-matter)

বাদী যে সম্পত্তি বা পদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেন, সেটিই মোকদ্দমার বিষয়বস্তু। একটি মোকদ্দমায় একাধিক বিষয়বস্তু থাকতে পারে।

উদাহরণ: বাদী যদি জমির মালিকানা দাবি করেন এবং একই সঙ্গে সেই জমিতে থাকা স্থাপনা সম্পর্কেও মালিকানা দাবি করেন, তবে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হবে দুটি: জমি এবং স্থাপনা

স্বার্থ
(Interest)

মোকদ্দমার বিষয়বস্তু থেকে যে সুবিধা বা অধিকার কোনো পক্ষ দাবি করেন, সেটিই ওই পক্ষের স্বার্থ।

উদাহরণ:
১. ‘ক’ বাদী হয়ে ‘খ’-এর বিরুদ্ধে একটি জমির মালিকানা দাবি করে মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে জমি হচ্ছে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু, আর ‘ক’-এর স্বার্থ হল জমির মালিকানা
২. ‘ক’ ভাড়াটিয়া হিসেবে ভোগ-দখলে থাকাবস্থায় জমির মালিক তাকে আইন বহির্ভূতভাবে উচ্ছেদ করে। ‘ক’ জমির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে ‘ক’-এর স্বার্থ হলো ভোগ-দখল


Discover more from আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

একটি মন্তব্য করুন ⤵️

×
পরামর্শ প্রয়োজন? এখানে চাপুন!